চট্টগ্রাম বুলেটিন

চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়বেন পুলিশের গুলিতে পা হারানো সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফ

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফ। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক এই ছাত্রদল নেতা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নগরবাসীর সেবা করতে নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম সাইফ বিগত ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সোর্স দিয়ে ডেকে তাকে তুলে নিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বায়েজিদ থানার তৎকালীন ওসি কামরুজ্জামান। পরে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে পাহাড়ে নিয়ে পায়ে গুলি করেন কামরুজ্জামান ও তার সহযোগিরা। এমনকি আহত অবস্থায় তাকে অস্ত্র মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসকরা তার প্রাণ বাঁচাতে অপারেশনের মাধ্যমে তার একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

একটি পা হারিয়ে দীর্ঘ সময় পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়ালেও দলের নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই ছাত্রনেতা।

বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের আন্দোলনেও ক্রাচে ভর দিয়ে অগ্রভাগে থেকে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন সাইফ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ক্রাচে ভর দিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার ৩০০ ফিটের সমাবেশে যান তিনি। এছাড়াও দল ক্ষমতায় না থাকলেও দীর্ঘ ১৭ বছর নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ এবং সাহসিকতার কারণে ৭ নম্বর ষোলশহর এলাকার সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মুখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, “আমি পদের জন্য রাজনীতি করিনি, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজের জীবনে শরীরের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ (পা) হারিয়েছি। ষোলশহরের মানুষ বিগত দিনের দুঃসময়ে যেভাবে আমার পাশে ছিলেন, আমিও তাঁদের ঋন শোধ করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেই আমি কাউন্সিলর পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন।”

এদিকে সাইফের এই নির্বাচনী ঘোষণার পর থেকে ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় সাধারণ ভোটার ও নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী এই নেতা কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার অবহেলিত জনপদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন জানান, সাইফুল ইসলাম সাইফ অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি এলাকার সুখে-অসুখে সবসময় পাশে থাকেন। বারবার নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রতিশোধের রাজনীতি কখনও করেননি।

দুইজন শিক্ষক চট্টগ্রাম বুলেটিনকে জানান, আমরা এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়। এরপরও সবসময় সাইফুল ইসলাম সাইফের কথা শুনি। তিনি মানুষকে সহযোগিতা করেন এবং বিপদে দৌড়ে আসেন৷ যতোটা বুঝলাম তার জন্য সাধারণ মানুষ পাগলপারা। বোধহয় তিনিও একই।

ছাত্রদল নেতা মাহিদুল ইসলাম মাহিদ জানান, সাইফুল ইসলাম সাইফ না থাকলে বায়েজিদে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা নানা হয়রানির শিকার হতে হতো। তিনি একপ্রকার আমাদের আগলে রেখেছেন৷ আসন্ন নির্বাচনে তাকে আমরা কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে চাই। তিনি একদিকে তারুণ্যের প্রতীক, অন্যদিকে সমাজসেবী এবং ক্রীড়া প্রেমী৷ তার কাছে কেউ অন্যায় করে পার পাবে না। জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করে তিনি অতিতের মতো দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন৷ নিন্দুকেরা নিন্দা করবে তাই বলে সাইফ ভাই থেমে থাকবে না।

Tags :

সর্বশেষ