২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ চার দফা দাবিতে আগামী ২০ জুলাই রোববার (২০ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য বৃহত্তর চট্টগ্রামে গণ ও পণ্য পরিবহন ধর্মঘট ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনসমূহ।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক মোরশেদুল আলম কাদেরী ও সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির সোহেল।
তারা জানান, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে মালিক ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী একাধিক ধারা রয়েছে, যা বাতিল বা সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া আকস্মিকভাবে ঘোষিত পরিবহনের ‘ইকোনমিক লাইফ’ মেয়াদ পুনর্বিন্যাস, আরোপিত বর্ধিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার এবং গাড়ির ফিটনেস কার্যক্রম কোনো বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে প্রণীত সড়ক পরিবহন আইন বর্তমানে মালিক-শ্রমিকদের জন্য ‘গলার ফাঁস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও অতিরিক্ত জরিমানার বিধান এ খাতকে ভয়াবহ সংকটে ফেলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চলমান বাজার অস্থিরতার মধ্যেও সরকার পরিবহন খাতে কোনো ভর্তুকি না দিয়ে উল্টো যন্ত্রাংশ, টায়ার-টিউবের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে আয়কর দ্বিগুণ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানতে পেরেছেন, বিআরটিএর গাড়ির ফিটনেস কার্যক্রম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টাও চলছে।
এ অবস্থায় মালিক-শ্রমিকদের ৪ দফা দাবি হলো—
১. যানবাহনের ইকোনমিক লাইফ প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বিন্যাস।
২. মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের কতিপয় ধারা সংশোধন।
৩. বর্ধিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
৪. বিআরটিএর ফিটনেস কার্যক্রম বেসরকারি সংস্থার কাছে না দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আধুনিকায়ন করে পরিচালনার দাবি।
তারা আরও বলেন, এসব দাবিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় ২০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য সকল পণ্য ও গণ পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণ ও পণ্য পরিবহন নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— একরামুল করিম, মোরশেদুল আলম কাদেরী, শওকত আলী, হুমায়ুন কবির, খোরশেদ আলম, আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী, ফারুক খান, নুরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামান সোহেল, মো. শাহজাহান, রেজাউল করিম, মো. হাবীব, মোবারক হোসেন, মো. খোরশেদ আলম, আলাউদ্দীন, মো. জাফর, আজিজুল হক, খোরশেদ আলম, মো. মিজান,মো জাপর, এবং মহিউদ্দিন।
এছাড়া শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মৃনাল চৌধুরী, মো. মুছা, মো. অলি আহম্মদ, রবিউল মাওলা, মো. আবুল কায়ের, মো. শফি, মো. টারজেন, মো. শাহ আলম, আবদুল আজিজ, মো. রুবেল, আহম্মদ হোসেন, নজরুল ইসলাম, খলিল রহমান, মো. মনসুর, আজিম খান,রবিউল মাওলা,কামাল উদ্দীন প্রমুখ।