২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের পর অনেকটা চমক জাগিয়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এর আগে পুরোনো ক্লাব ইউনাইটেডে তিনি পার করেন বিভীষিকাময় এক অধ্যায়। অবস্থা এমন ছিলো, ওল্ড ট্রাফোর্ড ছাড়তে পারলেই বাঁচেন। তবে নাসরে যোগ দেয়ার পর রোনালদোকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় লিওনেল মেসির সঙ্গে দ্বৈরথ ছিল রোনালদোর। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও এখন ইউরোপের বাইরে। গত বছর মার্কিন ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। তবে ইউরোপ ছাড়ার সময়ে মেসির থেকে বেশি সমালোচনা হজম করতে হয় রোনালদোকে। যখন ২০২২ সালে ইউনাইটেড ছেড়ে তখনও ফুটবল-জনপ্রিয় না হওয়া মধ্যপ্রাচ্যে যোগ দিচ্ছেন। সেখানেই তার ক্যারিয়ার শেষ বলে ধরেও নিয়েছিলেন অনেকেই, সেসব সংশয়বাদীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন রোনালদো। নেটফ্লিক্সের এক প্রোমোশনাল ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে জয়ী হতে এসেছিলাম, চেয়েছি লীগটাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে। একইসঙ্গে এখানে নিজের লিগ্যাসিটাও রেখে যেতে চাই। এটাই আমি চাই। ইউরোপে আমি সব জিতেছি। তারা (সমালোচক) বলেছিল আমি শেষ, আমি এখানে কেবল টাকার জন্যই এসেছি। আমি এখনও আগের মতো (ফুটবলে) আবেগটা অনুভব করি। তারা সেটি বিশ্বাস করতে চায়নি, কিন্তু আমি এখানে জিততেই এসেছি।’ অর্থের লোভেই রোনালদো সৌদি আরবের ফুটবলে যোগ দিয়েছেন বলে সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল। তবে মাঠেও নিজের খেলাটা ঠিকই ধরে রেখেছেন সিআরসেভেন। এখন পর্যন্ত নাসরের জার্সিতে ৮৫ ম্যাচ খেলেন গোল করেছেন ৭৪টি। ২০২৩ সালে জিতেছেন আরব চ্যাম্পিয়ন্স কাপ, ফাইনালে তিনি দুটি গোলও করেন। তবে এখনও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ কিংবা সৌদি প্রো লীগের মতো বড় শিরোপার স্বাদ পাননি পর্তুগিজ তারকা। পেশাদার ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডটি রোনালদো দখলে নিয়েছেন আগেই। পর্তুগাল জাতীয় দল এবং বেশ কয়েকটি ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত করেছেন ৯১০ গোল। ৯০০তম গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার পর এক হাজার গোল করার স্বপ্নের কথাও জানিয়েছিলেন রোনালদো। আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আল-নাসরের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তার।