অছাত্র, যথাযথ মূল্যায়ন না করা ও ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পরপরই চার নেতা পদত্যাগ করেছেন৷ এরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রিপন ও এক নম্বর সহ-সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম ইফতি, দুই নম্বর সহ-সভাপতি রবিউল হাসান সোহান, ৪ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন আরাফাত আসিফ৷
রোববার রাত আটটায় দিকে প্রথমে রিপন ও ইফতি পদত্যাগপত্র লিখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের কাছে জমা দিয়েছেন৷ পরে মধ্য রাতে রবিউল ও ইয়াছিনও পদত্যাগ করেন। তারা একইসাথে জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের কাছে পদত্যাগপত্রের অনুলিপি দিয়েছেন।
বিষয়টি চট্টগ্রাম বুলেটিনকে নিশ্চিত করেছেন ঘোষিত কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও পদত্যাগ করা নেতা মো. রিপন।
জানা যায়, রোববার ২৭ জুলাই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির সাক্ষরিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়৷ কমিটিতে রাশেদুল ইসলাম রাশেদকে সভাপতি ও বখতিয়ার আহমেদ সানিক সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে একজনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ৪ জনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আর একজনকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাত জনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে মোট ১৮ জন বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। রোববার বিকাল থেকে অনেকে কমিটির প্যাডের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করে অভিনন্দন জানালেও রাত আটটার দিকে পদত্যাগ করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রিপন ও এক নম্বর সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম ইফতি৷ পরে মধ্য রাতে রবিউল হাসান ও মো. ইয়াছিন আরাফাতও সরে দাঁড়ান এই কমিটি থেকে৷
পদত্যাগপত্রে সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রিপন লিখেছেন, আইআইইউসি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন৷ কিন্তু সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বখতিয়ার আহমেদ সানিফকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নন। এমনকি এ কমিটিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। পদ বন্টনের ক্ষেত্রে সিনিয়র জুনিয়র ক্রম মানা হয়নি। বিশেষ করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের টিম ৬ এর প্রধান জিয়াউদ্দিন বাসেদের পক্ষপাত মূলক ও স্বার্থান্বেষী ভূমিকা সংগঠনের আদর্শ, ন্যায়বোধ ও ত্যাগের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে৷ এজন্য স্বেচ্ছায় কমিটির এই পদ থেকে আমি পদত্যাগ করছি। অন্য তিনজনও একইভাবে চিঠি লিখেন।
মো. রিপন চট্টগ্রাম বুলেটিনকে জানান, যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি আগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নন বর্তমানে। আর এই কমিটিতে স্বার্থান্বেসী মহল ফায়দা লুটেছে। ৫ আগস্টের আগে ছাত্রদলের কোন কার্যক্রমে ছিলেন এমন অনেককে কমিটিতে রাখা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সংসদকে ম্যানেজ করে ছাত্রলীগও ঢুকে গেছে। তাই আমরা দুজন পদত্যাগ করেছি৷ এসময় কমিটির আরও কয়েকজন পদত্যাগ করার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন রিপন৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কয়েকজন জানান, বেশিরভাগই অছাত্র ও একসময় ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত ছিল৷ তাছাড়া যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে৷
জানতে চাইলে এই কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বুলেটিনকে জানান, এতোদিন যাদের নিয়ে সাংগঠনিক কাজ করেছি৷ তাদের নিয়ে কমিটি হলো৷ অথচ তাৎক্ষণিক চারজন নেতা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন৷ যা খুবই দু:খজনক৷ তারা প্রত্যাশিত পদে না আসায় পদত্যাগ করেছেন৷ তবে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আসছে কমিটি ঘোষণার পর থেকে৷