এসএসসি পরীক্ষার শুরু থেকেই অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের জন্য মানবিক এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তারই অংশ হিসেবে আজ রোববার (৩ মে) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি ও নাস্তা বিতরণ করেন তিনি। সকালে নগরীর অঙ্কুর সোসাইটি উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিএমপি স্কুল ও গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রগুলোতে যান সাঈদ আল নোমান। এসময় তিনি প্রতিকূল আবহাওয়ায় কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অভিভাবকদের হাতে নাস্তা ও বিশুদ্ধ পানির বোতল তুলে দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে কথা বলেন। তার এমন উদ্যোগ এখন অনলাইন-অফলাইনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সচেতন মহল বলছে, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন সংস্কৃতি রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সেইসাথে সাঈদ আল নোমান সারাদেশের জন্য হতে পারে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
জানা গেছে, জনকল্যাণমূলক এই সেবাটি তিনি গতবছর থেকে পরিচালনা করে আসছেন। এমনকি সম্প্রতি তিনি বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চীনে অবস্থানকালেও এই কার্যক্রম থেমে থাকেনি। তার নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকে প্রতিনিধি দল প্রতিটি কেন্দ্রে এই মানবিক কর্মসূচী পালন করে আসছিল। দেশে ফিরে রোববার তিনি নিজেই সরাসরি কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের বসার জন্য ছায়াযুক্ত স্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
সাঈদ আল নোমানের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশে এটিই সংসদ সদস্যের উদ্যোগে প্রথম কোন কর্মসূচী যেখানে এমপি নিজে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমান মা-বাবাদের খোঁজ নিয়েছেন। তাদের একটু স্বস্তিতে ও নিরাপদে অপেক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান নিজে প্রতিটি কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে অভিভাবকদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।
একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে এসে পানি ও নাস্তা বিতরণ করতে দেখে অভিভাবকরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি এমপি সাহেবের এই আন্তরিকতায় অনেকটা লাঘব হয়েছে।
অঙ্কর স্কুলে আসা অভিভাবক আমেন বেগম জানান, আমি কোনদিন দেখিনি একজন এমপিকে কেন্দ্রে এসে অভিভাবকদের খোঁজখবর নিতে। চট্টগ্রামে এই মুহুর্তে অনেক স্থানে পানি ওঠেছে। সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। অথচ তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভিন্নভাবে। এটি নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
সিএমপি স্কুলের আরেক অভিভাবক মো. রোকনুজ্জামান জানান, ভেতরে সন্তান পরীক্ষা দিচ্ছে, তিন ঘন্টা বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। রোদ-বৃষ্টিতে আমাদের অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে অতিতে। কিন্তু এমপি সাঈদ আল নোমান সেই অপেক্ষায় এনে দিয়েছেন স্বস্তি।
গরীবে নেওয়াজ স্কুলের বাইরে অপেক্ষায় থাকা রোকসানা বেগম জানান, সাঈদ আল নোমান বিদেশে অবস্থান করলেও প্রথম দিন থেকে আমাদের জন্য নাস্তা ও পানির ব্যবস্থা করেন। অনেক কেন্দ্রের সামনে কোন দোকান নেই, এই উদ্যোগ আমাদের জন্য অনেক সুবিধার।
আয়োজনের একজন টীম মেম্বার জানান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের উদ্যোগে নগরীর বড় ১০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এই আয়োজন করা হয়েছে। স্কুলগুলোর সামনে পর্যাপ্ত চেয়ার, টেবিল, ত্রিপলসহ প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে। যাতে প্রত্যেকে আরামে বসতে পারেন। এগুলো হলো, অঙ্কুর সোসাইটি উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিএমপি স্কুল ও গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়, টাইগার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাহাড়তলী রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল এণ্ড কলেজ, প্রাণহরী উচ্চ বিদ্যালয়।
সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির মূল সার্থকতা নিহিত থাকে সাধারণ মানুষের সুখে-দুখে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে। তীব্র রোদে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের একটু পানি বা ছায়ার ব্যবস্থা করা আমার দায়িত্বের বাইরে কিছু নয়, বরং এটি আমার নাগরিক ও মানবিক কর্তব্য। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সেবার মাধ্যমে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো কিছুতেই সম্ভব নয়। আমাদের সবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সেবামূলক প্রচেষ্টাই একদিন একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।”