চট্টগ্রাম বুলেটিন

সমাবেশে কাঁদলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর

কি দোষ ছিল আমাদের শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের? কি দোষ ছিলো আমাদের মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের? কি দোষ ছিল মীর কাশেম আলী ভাইয়ের? কি দোষ ছিল কোরআনের পাখি আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের? কি অপরাধে তাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হলো। এতোগুলো বছর অন্ধকার কারাগারে বন্দি রাখা হলো। সংগঠন, সন্তান, স্ত্রী, পিতা-মাতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হলো। এতো নির্যাতন করা হলো৷ কি দোষ ছিল ওদের?

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমাতুন নূর কমিউনিটি সেন্টারে ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী ও সহযোগী সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত নয়নে এসব প্রশ্ন তুলেন উপজেলার আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান। এসময় সমাবেশস্থলে এক আবেগ-অনুভূতি প্রবণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়৷ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ গুমরে কেঁদে ওঠেন।

এসময় উপজেলা আমীরে জামায়াত আরও বলেন, শেখ হাসিনা শুধুমাত্র কোরআনের কথা বলায় আমাদের নেতাদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে। এরপরও আমরা এ সংগঠন থামায়নি। আমাদের কাছে প্রস্তাব এসেছে বাতিলের সাথে আপোষ করার। আমাদের নেতারা তা করেননি। হাসিমুখে তৃষ্ণার্তের মতো শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর ফলাফল দুটি। এক হচ্ছে জান্নাত আর এক হচ্ছে জাহান্নাম। শয়তান হবে জাহান্নামের নেতা। আমাদের বেঁচে নিতে হবে আমরা কোন পথে যাব। প্রিয় ভাইয়েরা আমাদের দাওয়াত শেষ হয়নি। আমাদের বিজয় আসেনি। ঘরে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। আমাদেরকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। অবসরের কোন সুযোগ নেই।

উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা আরও বলেন, আমরা দুই দলের শাসন দেখেছি। কে কিভাবে দেশ চালিয়েছে তা সকলেই জানি। পৃথিবীতে জামায়াতে ইসলামী ব্যতিত এমন কোন দল নেই যেই দলের নেতা রাস্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে। আমরা দেশ পুরোপুরি শাসনের সুযোগ পায়নি৷ কিন্তুু ৩ টা মন্ত্রণালয় আমরা চালাতে পেরেছি, আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিয়েছেন। আমরা শিল্প, কৃষি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছি। তত্বাবধায়ক সরকার বাঁতি দিয়ে খুঁজেও আমাদের দুর্নীতি পায়নি। আমাদের নেতা রাস্ট্রীয় কোষাগারে টাকা ফেরত দিয়েছেন। একবার জামায়াতের একজন মন্ত্রী কুমিল্লায় গিয়েছিলেন সরকারি কাজে। তিনি সেখানে দুপুরের খাবার খাননি৷ কিন্তুু দপ্তরের অফিসাররা ওনাকে ২ লাখ টাকা দিয়ে দেন লাঞ্চ বাবদ। ওনি বললেন, এগুলো কিসের বিল? অফিসার বললেন, স্যার দুপুরের খাবারের। তিনি বললেন, আমিতো খায়নি। তাহলে কিসের বিল? অফিসার বললেন, স্যার এটা আপনাকে সেজন্য দিয়ে দিলাম যেহেতু আপনি খাননি। মুহুর্তেই সেই অফিসারের চাকরী চলে যায়। এটার নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মন্ত্রীরা, এমপিরা কখনও সফরে গেলে সরকারি টাকা নষ্ট করে না। ওনারা ওই এলাকার আমীরকে বলেন, আমি আসতেছি, আমার জন্য খাবার রেডি রাখেন।

আপনারা বলেন, আমরা এতো টাকা কোথায় পায়? আমাদের এতো টাকা আসে কোথা থেকে? আপনি হয়তো জানেন না যারা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করে তাদের আয়ের ৫ শতাংশ সংগঠনকে দিয়ে দিতে হয়। সেই টাকা থেকেই আমরা গত কয়েকদিন আগে শহীদদের পরিবারে ১৬ কোটি টাকা দিয়েছি। আমাদের টাকা কোথা থেকে আসে বুঝেছেন? আমরা ১০০ টাকা আয় করলে ৫ টাকা জামায়াতকে দিয়ে দিই।

মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে সংখ্যা গরিষ্ঠ সিটে জাতীয় সংসদে পাঠাতে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য। এটাই আমাদের বিজয়। আসুন আমরা সকলে একযোগে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করি। ঘরে ঘরে ইসলামী আন্দোলনের বীজ বুৃঁনি৷

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ এই জালিম হাসিনাকে তার আবাবিল পাখি পাঠিয়ে পতন করেছেন৷ আমাদের এই ছোট ছোট বাচ্চারা, সন্তানরা আবাবিল পাখি। এই পাখির ঝাঁক বাতিলের মসনদে এতোটা কম্পন সৃষ্টি করেছে, এতোটা কাঁপিয়ে তুলেছে যে এক কাপড়ে ভারতে পালিয়েছে। আমরা আজ যেই পরিবেশ পেয়েছি এই পরিবেশকে কাজ লাগাতে হবে। আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করতে হবে। না হয় আরও কতোদিন আমাদেরকে আরেক জালিমের অধীনে থাকতে হয় জানা নেই।

যুবাইদিয়া ইসলামিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে ও পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুল করিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এডভোকেট আশরাফুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শামসুল হুদা, পৌর সেক্রেটারি মাস্টার গিয়াস উদ্দিন পারভেজ, জামায়াত নেতা মাহমুদুর রহমান জুয়েল, মামুন উদ্দিন।

এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর নেজাম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা মাস্টার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ সাঈদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বায়তুশ শরফের পেশ ইমাম মাওলানা আবছারুল আমিন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা নুরুল হুদা সাহাবুদ্দিন প্রমুখ।

সম্মেলনে অর্থসহ কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন মাওলানা জাহেদুল ইসলাম ফারুকী, ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী হাসানুল বান্না ও মাহমুদুর রহমান জুয়েল। এতে কয়েকশ জামায়াত কর্মী ও সহযোগী সদস্য অংশ নেন।

 

Tags :

সর্বশেষ