শিক্ষানবিশ রিপোর্টার:
বর্ষা মৌসুমের শুরুতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ লিংক রোডে পাহাড় ধ্বসে পড়েছে। টানা গত তিন দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সংযোগ সড়কটির একাধিক পয়েন্টে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে আবারও দূর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লিংক রোড়ের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনও কোন গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। যখনি অতিবৃষ্টি হয় তখনই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সড়কটি বন্ধ করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। অথচ স্থায়ী কোন সমাধানে মনোযোগী না সংস্থাটি। তাছাড়া সরকারি অর্থে স্থাপিত আলোকাইন ব্যবস্থা কোন অনেকটাই অকার্যকর।
সরেজমিন শনিবার (২ মে) সকালে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের ছয় নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিশাল একটি পাহাড় ধ্বসে পড়েছে। বর্তমানে সড়কটির ওই অংশের একটি লেন বন্ধ রয়েছে এবং অপর লেন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যান চলাচল করতে হচ্ছে। পাহাড় ধসের ফলে সড়কের উপর এলোমেলোভাবে মাটি ও পাথর জমে স্তূপ হয়ে আছে। যা প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এতে ওই সড়কের ফৌজদারহাটমুখী লেনে চলাচল করা যানবাহনগুলোকে মাঝপথে হঠাৎই ধীরগতি আনতে হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে লিংক রোড়ে পাহাড় ধ্বসে পড়ে। বিশেষ করে ছয় নম্বর ব্রিজ ও আশেপাশের পাহাড়গুলো বেশি ধ্বসে পড়ে বৃষ্টি হলে। এছাড়াও এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসে পড়ে। পাহাড় ধ্বসে পড়লেই পাহাড়ের মাটিগুলো গড়িয়ে পুরো লিংক রোডকেই পিচ্ছিল করে তোলে। যা যেকোনো দূর্ঘটনার উপক্রম হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যবহারকারীরা জানান, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংকরোডটি ব্যবহার করে চট্টগ্রাম শহরে সহজে প্রবেশ করা যায়। এতে একেখান,অলংকারসহ জাকির হোসেন রোড ঘুরে শহরে আসতে হয় না। বায়েজিদ অক্সিজেন, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাঙ্গামাটিমুখী যানবাহন লিংক রোড ধরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এতে বাঁচে সময়, বাঁচে জ্বালানি। তবে প্রায় সময় পাহাড়ধ্বসের কারণে সড়কটি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন ব্যবহারকারীরা। সবশেষ জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের বড় ধরনের অভিযানের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে লিংকরোড বন্ধ করে রাখে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পতেঙ্গা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ ধরনের ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আরও ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও আবহাওয়া অফিস, চট্টগ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় পাহাড় ধ্বস, ভূমি ধস ও জলাবদ্ধতার সংকেত জারি করেছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লিংক রোডটি বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে ফৌজদারহাট হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। ২০২০ সালে প্রায় ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনের এই সড়কটি নির্মাণ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রায় ১৬টি পাহাড় কেটে ফেলা হয় এবং প্রায় ১০ লাখ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজের সময় প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই অনেক স্থানে খাড়া (প্রায় ৯০ ডিগ্রি) কোণে পাহাড় কাটা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ধ্বসের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর সিডিএ’কে প্রায় ১০.৩৮ কোটি টাকা জরিমানা করে এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) থেকেও আইনি নোটিশ দেওয়া হয়।

বর্তমানে সড়কটির একপাশ বন্ধ রেখে যান চলাচল চালু থাকায় যাত্রী ও চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত মাটি অপসারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি অংশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরএম