শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে জিয়া মঞ্চ আয়োজিত আলোচনায় সভায় বক্তারা বলেছেন, জিয়াউর রহমান সাহসী ভূমিকা না রাখলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অঙ্গরাজ্য হতো। তার অগ্রণী ভূমিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যেমন রক্ষা পায় তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামও রক্ষা পায়। অন্যথায় এটি ভারত দখল করে নিতো।
বুধবার (১৭ জুন) জিয়া মঞ্চ চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলার যৌথ উদ্যোগে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অন্যতম রক্ষক। তিনি দেশের মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিলেন এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর আদর্শকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে হবে।”
প্রধান বক্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, “জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল জনগণকেন্দ্রিক। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা তুলে ধরা সময়ের দাবি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগের টিম লিডার ওয়াকিল আহমদ বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ ছিল জাতীয় ঐক্য, আত্মনির্ভরশীলতা এবং জনগণের ক্ষমতায়ন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”

জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ ছিল কর্ম, সততা, দেশপ্রেম ও জনগণের ক্ষমতায়ন। তিনি যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম শক্তি। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও দেশগঠনের অবদান তুলে ধরার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে অহিদুল ইসলাম চৌধুরী শরীফ বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে আজও অম্লান। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তাঁর আদর্শই আমাদের চলার পথের প্রেরণা।”

এছাড়া বক্তব্য রাখেন জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন পলাশ, এম. এ. কালাম, কামাল উদ্দিন আরব, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাত হারুন ও কামাল হোসেন অনিক, সহ-সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম ও আব্দুল কাদের, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলম ফারুকী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য লায়ন মোঃ শওকত আলী নূর এবং জিয়া মঞ্চ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক মোঃ শাহ আলম।
সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদান, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জিয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয়, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া মঞ্চ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম চৌধুরী শরীফ। এতে সঞ্চালনায় ছিলেন, সংগঠনটির উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, ও দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব এডভোকেট ইসকান্দার আলম চৌধুরী।